জাতীয়

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

মো: সাজিদ পিয়াল
মো: সাজিদ পিয়াল সিনিয়র রিপোর্টার ( মুক্তধ্বনি )
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের পথে, ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে ভাষণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে আগামীকাল ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংক্ষিপ্ত এ সফরে তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।২০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফর শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। এদিন জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। পরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে অনুষ্ঠিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।জলবায়ু ও বৈশ্বিক বৈষম্যসফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে জলবায়ু ও বৈশ্বিক বৈষম্যের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোও প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে থাকছে। ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলায় আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।একই দিনে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা সেখানে আলোচনায় আসতে পারে।২৪ সেপ্টেম্বর জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় আয়োজিত ওই সভায় বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।রোহিঙ্গা সংকটেও গুরুত্ব জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের সরকারি অবস্থানও হলো—রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ।পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে আয়োজিত আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হতে পারে।বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকজাতিসংঘ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতি। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, উৎপাদন ও অবকাঠামো খাত,প্রযুক্তি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।বাংলাদেশের জন্য আলাদা তাৎপর্য এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের একটি বিশেষ দিক হলো—জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ আবারও সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে এসেছে।এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর বাংলাদেশের জন্য বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে নিজেদের অগ্রাধিকার ও অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
Tags: জাতিসংঘ অধিবেশন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান নিউইয়র্ক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ জলবায়ু পরিবর্তন রোহিঙ্গা সংকট টেকসই উন্নয়ন

জাতীয়

শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠান শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠান

শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে দেশব্যাপী পালিত হয়েছে শিশু অধিকার দিবস। একই সঙ্গে বাংলাদেশ শিশু...

অক্টোবর ৬, ২০২৬
জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের পথে, ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে ভাষণ জাতিসংঘ সাধারণ...

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

0 মন্তব্য