আইন-অপরাধ

সাংবাদিক বাবাকে না পেয়ে ১৬ বছরের ছেলেকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ, খুলনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মোঃ আল-মাহফুজ শাওন
মোঃ আল-মাহফুজ শাওন খুলনা জেলা প্রতিনিধি
অক্টোবর ৭, ২০২৬
সাংবাদিক  বাবাকে না পেয়ে ১৬ বছরের ছেলেকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ, খুলনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সাংবাদিক বাবাকে না পেয়ে ১৬ বছরের ছেলেকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ, খুলনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকায় এক সাংবাদিকের ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে বাড়ি থেকে থানায় নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে নগরীর গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার বাড়ি থেকে ওই কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়। পরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।

কিশোরটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং হেফজ বিভাগেও পড়াশোনা করছে।

কিশোরের মা সুমনা বেগম অভিযোগ করেন, সোমবার পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের খোঁজ করে। তাঁকে না পেয়ে একপর্যায়ে তাঁর ছেলেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিএল কলেজের ২ নম্বর গেটে যুবককে গুলি, আহত মহিদুল বিএল কলেজের ২ নম্বর গেটে যুবককে গুলি, আহত মহিদুল

পরিবারের আরও দাবি, থানায় নেওয়ার পর কিশোরের সামনে তার বাবাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাইফুল্লাহ তারেক দৈনিক প্রবাহের নিজস্ব প্রতিবেদক। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি এলাকার মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং স্থানীয় থানা পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, সম্প্রতি গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। ওই মামলার এজাহারে সাইফুল্লাহ তারেক সম্পর্কে কিছু বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

সাইফুল্লাহ তারেকের দাবি, মামলাটি যথাযথ তদন্ত ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, সোমবার পুলিশ মামলার বাদীপক্ষের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে যায় এবং তাঁকে না পেয়ে তাঁর ছেলেকে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে খুলনা শিশু সুরক্ষা জোটের সভাপতি শামিমা সুলতানা শিলু বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলা থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত হওয়া উচিত। তবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে না পেয়ে তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে থানায় নেওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

খুলনায় ছেলে হত্যার পর এবার বাবা আফতাব ঢালীকে গুলি করে হত্যা খুলনায় ছেলে হত্যার পর এবার বাবা আফতাব ঢালীকে গুলি করে হত্যা

অন্যদিকে, পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার। তাঁর ভাষ্য, ওই কিশোর পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেয় এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এ কারণেই তাকে থানায় নেওয়া হয়েছিল।

ওসি আরও জানান, পরে জন্মসনদ যাচাই করে কিশোরের বয়স ১৬ বছর নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবার ঘটনাটিকে হয়রানি হিসেবে দেখলেও পুলিশ বলছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগেই কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়েছিল।

দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হওয়ায় ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tags: সাংবাদিক বাবা খুলনা পুলিশ খানজাহান আলী থানা কিশোর থানায় সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক পুলিশি হয়রানি ক্ষমতার অপব্যবহার শিশু সুরক্ষা

আইন-অপরাধ

বিএল কলেজের ২ নম্বর গেটে যুবককে গুলি, আহত মহিদুল বিএল কলেজের ২ নম্বর গেটে যুবককে গুলি, আহত মহিদুল

খুলনা নগরীর সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক যুবককে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। এতে মহিদুল (২২) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন।আহত মহ...

অক্টোবর ৭, ২০২৬
নাসিমের যেভাবে আন্ডারওয়ার্ল্ডে উত্থান, দুই দশকের আত্মগোপনের পর গুলিতে মৃত্যু নাসিমের যেভাবে আন্ডারওয়ার্ল্ডে উত্থান, দুই দশকের আত্মগোপনের পর গুলিতে মৃত্যু

খুলনার দিঘলিয়ার ফরমাইশখানায় চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় গুলিতে নিহত হয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ)-এর আঞ্...

অক্টোবর ৫, ২০২৬

0 মন্তব্য