লোহিত সাগর উপকূল দখলে হুথিদের সাফল্যে ইরানের অভিনন্দন
তেহরান থেকে জানা গেছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকা হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আসার ঘটনাকে ইরানের সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইতিবাচকভাবে দেখছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের কৌশলগত সুবিধা বাড়াবে।
জাইদি শিয়া সম্প্রদায়ভিত্তিক রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানাকে দখল করার পর থেকে পশ্চিমা সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। চলতি সপ্তাহে তারা লোহিত সাগরের একাধিক উপকূলীয় শহর ও দ্বীপ দখল করে নেয়, যার ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কার্যত নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর পশ্চিম উপকূলীয় বিজয় 'ঐশী বিজয়ের বর্ণনা' এবং কঠিনতম যুদ্ধক্ষেত্রে বছরের পর বছর অবিচল থাকার ফল।
হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির পর ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের ইয়েমেনি মিত্রদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। শুক্রবার মোখা বন্দর শহর দখলের মাধ্যমে ইয়েমেন সরকারের লোহিত সাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ২০২৪ সালে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি মন্তব্য পুনঃপ্রকাশ করে বলেন, হুথিদের 'প্রতিরোধ' অবশ্যম্ভাবীভাবে বিজয়ে রূপ নেবে। তিনি আরবিতে যোগ করেন, সাহসী ইয়েমেনি জনগণ অবশ্যই বিজয়ী হবে।
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেন, সরকার হুথিদের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট এবং তিনি অঞ্চলের নেতাদের প্রতি 'যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের নির্ভরতা থেকে মুক্তির যুক্তি' এবং ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যের আহ্বান জানান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার বলেন, হুথিদের 'মহাবিজয়' আবারও প্রমাণ করেছে নিরাপত্তা কিনে পাওয়া যায় না।
২০২৩ সালে হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একাধিক জাহাজে হামলা শুরু করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল সানা, হোদেইদাসহ হুথি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়া সৌদি আরব বর্তমান সংঘাতে অনেকটাই দূরে রয়েছে।
সাম্প্রতিক বিজয়ের পর হুথিরা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মায়ুন বা পেরিম দ্বীপসহ একাধিক দ্বীপ তাদের হাতে আসায় প্রণালীর কাছে সরাসরি পৌঁছানোর সুবিধা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এক হুথি কমান্ডার সৈন্যদের বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজে হুমকি দিতে আর ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের প্রয়োজন হবে না; উপকূলে কামান বসিয়ে চারদিকে গোলা ছোড়া যাবে। হুথিরা প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেনি, তবে তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি শুক্রবার বলেন, সৌদি জাহাজ ছাড়া সব কোম্পানির জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ।
অন্যদিকে আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে হরমুজ প্রণালীর আংশিক নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় প্রণালী বন্ধের সম্ভাবনা ব্যবহার করা হতে পারে।
সোমবার ইরানি কর্মকর্তারা আঞ্চলিক আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সহজ করার বিষয়ে আলোচনায় বসবেন। তেহরান বলছে, প্রণালী এখনও বন্ধ রয়েছে এবং তারা এই জলপথে চলাচলে সম্মিলিত আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি চায়। ইরান দাবি করেছে, প্রণালীতে জলসীমা থাকা ওমানের সঙ্গে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির বিরোধিতা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
তেহরান স্পষ্ট করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। ইরানের কট্টরপন্থী পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি শনিবার লিখেছেন, যতদিন মার্কিন পক্ষ ইরানের সব শর্ত মানবে না, ততদিন সংলাপ ও আলোচনা অর্থহীন।
শনিবার ইরানে কর্মসপ্তাহ শুরুর দিন কট্টরপন্থী ও আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো হুথিদের অগ্রগতি উদযাপন করে। আলী খামেনির নিয়োগ করা প্রধান সম্পাদক পরিচালিত কেইহান এই অগ্রগতিকে 'প্রতিরোধের অলৌকিক ঘটনা' বলে অভিহিত করে এবং দাবি করে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিপাকে ফেলেছে। মাশহাদের প্রভাবশালী আসতান-এ কুদস রাজাভির প্রকাশিত কুদস পত্রিকা ইরান ও হুথিদের 'প্রণালীর অধিপতি' বলে উল্লেখ করে।
তবে তেহরান বারবার হুমকি দিলেও ইরানের কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান হুথিদের অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেনি। আগের মতোই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, হুথিরা তেহরানের নির্দেশে নয়, নিজেদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয় সৌদি অবরোধের অবসান, হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি অবরোধ প্রত্যাহার, গোষ্ঠী ও রিয়াদের মধ্যে অবিলম্বে আলোচনা শুরুর আহ্বান এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলে।
হুথিরা তেহরানের প্রক্সি হিসেবে কাজ করে—এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ইয়েমেনে যা ঘটছে তা ইয়েমেনিদের ধৈর্যের অবসানের ফল। তিনি বলেন, বছরের পর বছর নিষ্ঠুর অবরোধের শিকার হওয়া এবং জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক ব্যবস্থা সমস্যার সমাধান করতে পারবে না—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়টি অস্বীকার করা ন্যায্য নয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ৪৩টি দেশের তরুণ-তরুণীরা একত্রিত হয়ে শান্তি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মূল্যবোধ অন্বেষণ করেছেন। আন্তর্জাতিক...
ভূমিকম্পের পর আকস্মিক বন্যা ও ধস: নেপালে ২৯১ বিদেশি সহ প্রায় ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ। আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া...

